কীভাবে খুব সহজে আইলাইনার ব্যবহার পারফেক্ট ভাবে ব্যবহার করা যায়

0
107
eyeliner

চোখ মানব দেহের একটা গুরুত্বপূর্ণ  অঙ্গ। চোখের সৌন্দর্য ও তাই গুরুত্বপূর্ণ। পার্টি হোক বা কোন অনুষ্ঠান, বিয়ের দাওয়াত, অথবা নিজের কোন বিশেষ দিনে চোখটা কে একটু না সাজালে কি চলে? সব কিছু যেমনই হোক চোখটা হতে হবে সুন্দর, বড় বড়, টানা টানা। সবার নজর খুব সহজে কাড়বে এমন ভাবে চোখটা সাজাতে কে না চায়।

চোখ সাজানোর জন্য আইলাইনারের (Eyeliner) প্রয়োজন সবারই হয়। এর সাহায্যে চোখটাকে খুব সুন্দর ও টানা টানা করা যায়। কিন্তু যেমন তেমন ভাবে চোখে আইলাইনারের ব্যবহার করলে কি হবে?? অবশ্যই না। এজন্য অবশ্যই একটু ধারণা নিতে হবে। আজকে আমি আপনাদের সাথে এ বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো।

তাহলে চলুন জেনে নেই কীভাবে আইলাইনারের ব্যবহার খুব সহজে ও সঠিক ভাবে করা যায়।

যা যা প্রয়োজন

আইলাইনারের ব্যবহার করতে হলে যা যা প্রয়োজন সেগুলো হলো,

  • ভালো মানের আইলাইনার।
  • প্রাইমার।
  • কনসিলার।
  • আইলাইনার ব্রাশ।
  • একটা আয়না।

এই জিনিস গুলো অবশ্যই প্রয়োজন হয় পারফেক্ট ভাবে আইলাইনারের ব্যবহারের জন্য।

আইলাইনারের ধরণ

আইলাইনার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যার যেটা ভালো লাগে অথবা ব্যবহারে পারদর্শী সে সেটাই বেছে নিবেন।

জেল আইলাইনার

বর্তমানে জেল আইলাইনার সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই আইলাইনার মেয়েদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ। এটা ছোট কৌটার মধ্যে থাকে। এই আইলাইনার কিছুটা ক্রিমি আর ঘন হয় তাই খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। এর ব্যবহারের জন্য আলাদা ব্রাশ ব্যবহার করতে হয়। এই ব্রাশের সাহায্যে চোখে খুব সহজে ও সুন্দর ভাবে এই আইলাইনার ব্যবহার করা যায়। কিছু জনপ্রিয় জেল আইলাইনারের নাম হলো,  মেইবিলিন জেল আইলাইনার, কালেকশন জেল আইলাইনার, ইনলট জেল আইলাইনার।

লিকুইড আইলাইনার

লিকুইড আইলাইনার তরল থাকে।একটা বোতলের ভিতরে এই আইলাইনার পাওয়া যায়। এর সাথে ছোট ব্রাশ দেয়া থাকে। কিছু লিকুইড আইলাইনারের নাম হলো, গোল্ডন রোজ লিকুইড আইলাইনার, জ্যাকলিন লিকুইড আইলাইনার।

পেনসিল আইলাইনার

এ ধরনের আইলাইনার পেনসিলের মত হয়ে থাকে। চোখের পাতায় ও নীচে এটা ব্যবহার করা যায়। এর ব্যবহার অনেক সহজ। কিছু পেনসিল আইলাইনারের নাম হলো,

পেন আইলাইনার

পেন আইলাইনার গুলো দেখতে অনেকটা কলমের মতই দেখতে। এ ধরণের আইলাইনার ব্যবহার করা অনেক সহজ। যারা আইলাইনারের ব্যবহার তেমন একটা করতে পারে না তাদের জন্য এটা অনেক ভালো। কয়েকটা পেন আইলাইনারের নাম হলো, ফ্লোরমার পেন আইলাইনার, কালেকশন পেন আইলাইনার।

গ্লিটার আইলাইনার

খুব গর্জিয়াস মেকাপের ক্ষেত্রে গ্লিটার আইলাইনার ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন কালার বা শেডের পাওয়া যায় এ ধরনের আইলাইনার। কিছু গ্লিটার আইলাইনারের নাম হলো, আরবান ডি কে গ্লিটার আইলাইনার।

আইলাইনারের ব্যবহার

আইলাইনারের ব্যবহার সম্পর্কে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করা হলো,

স্টেপ-১

প্রথমেই মুখ ভালো করে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। তারপর চোখের নিচে আই ক্রিম লাগাতে হবে যাতে করে রিংকেল অথবা লালচে ভাব বোঝা না যায়।

স্টেপ-২

তারপর চোখের নিচে, উপরে, চশে পাশে প্রাইমার লাগান। প্রাইমার লাগালে চোখ টা অনেক বেশি সুন্দর দেখাবে। এরপর অবশ্যই চোখের কালারের সাথে মিল রেখে কনসিলার লাগাতে হবে। কনসিলার খুব ভালো ভাবে মিশাতে হবে। যত ভালো করে কনসিলার মিশাবেন ততই ভালো হবে আর আপনার চোখ দাগ মুক্ত সুন্দর দেখাবে। এবার একটু পাউডার লাগিয়ে কনসিলার সেট করে নিন।

স্টেপ-৩

এবার মেইন পার্ট অর্থাৎ আইলাইনার লাগানোর পালা। প্রথমে আপনার পছন্দ মত আইলাইনার নিয়ে ব্রাশের সাহায্যে চোখের উপরিভাগে হালকা করে ছোট ছোট ডট এর মত লাইনার লাগান। এতে করে লাইনারটি লাগাতে সুবিধা হবে। যদি মনে করেন ঠিক তাহলে এবার গাঢ় করে লাগান। প্রথম চোখের মত করে আরেকটা চোখ ও একই ভাবে আঁকার চেষ্টা করুন। এবার খানিকক্ষণ চোখটা বন্ধ করে রাখুন। ব্যাস হয়ে গেল।

স্টেপ-৪

এবার যদি চান আইলাইনার একটু টানা টানা চোখ করতে তাহলে চোখের পাতার উপরে একটি মোটা করে দিতে পারেন। আপনি চোখের পাতায় ব্রাশের সাহায্য নিয়ে লাইনার টানুন। আগের মত করেই দাগ দিবেন। এবার যখন চোখের কোণায় আসবে তখন একটু দাগটা উপরের দিকে করে টানুন। এতে করে আপনার চোখ মায়াবী দেখাবে। তারপর আরেকটি চোখ ও একই ভাবে আঁকুন। এবার শুকাতে দিন কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে।

স্টেপ-৫

এবার চোখের নিচে কাজল দিয়ে একে নিন। চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগিয়ে নিন। হালকা নিচে একটু পাউডার দিন যাতে করে কাজল, মাশকারা ছড়িয়ে না যায়।

ব্যাস হয়ে গেল আপনার আই মেকাপ।

কিছু টিপস

আইলাইনার ব্যবহার করতে হলে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে ভুলবেন না।

  • আইলাইনারের ব্যবহার করতে গেলে অবশ্যই চেষ্টা করবেন সেটা যেন ভালো মানের হয়। কারণ চোখের কোন ক্ষতি আপনাকে সারাজীবন কষ্ট দিবে।
  • আইলাইনার ব্যবহারের আগে হাতের কনুই কোথায় রেখে তারপর লাগাবেন এতে করে হাত কাঁপবে না।
  • যদি দাগ টানতে গেলে আঁকাবাকা হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই কোন শক্ত কাগজ চোখের কোণায় একটু আড়াআড়ি ভাবে ধরে টান দিবেন। তাহলে সোজা হবে।
  • উইং তৈরিতে আগে থেকে ছোট ছোট ডট বা স্ট্রোক তৈরি করে নিবেন।
  • কসমেটিকস মিরর বা আয়নার ব্যবহার করুন। এতে লাইনার ব্যবহার করতে সুবিধা হবে।
  • লাইনার ব্যবহারের সময় নিচের দিকে তাকিয়ে লাগানোর চেষ্টা করবেন। এতে করে শেপ নষ্ট হবে না।
  • লাইনার ব্যবহারের সময় চোখের পলক বেশি ফেলবেন না। স্থির থাকার চেষ্টা করবেন।
  • আইলাইনার ব্যবহারের পর কিছুটা সময় চোখ বন্ধ করে রাখুন তা না হলে তা লেগে যেতে পারে।

আইলাইনার ব্যবহার করা অনেক কঠিন একটা কাজ। কিন্তু ব্যবহার করে যখন পারদর্শী হয়ে যাবেন তখন দেখবেন অনেক সহজ হয়ে যাবে আর আপনার সমস্যা গুলো ও আর থাকবে না। বার বার প্র্যাকটিস করুন।

আপনাদের মতামত অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে লিখতে ভুলবেন না।