বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে | আপনার ভালোবাসা দিবসটি করে তুলুন স্পেশাল

0
202

১৪ ই ফেব্রুয়ারি Valentines Day বা ভালোবাসা দিবস নামটা শুনলেই কেমন জানি একটু স্পেশাল মনে হয়। এই দিনটি  প্রেমিক যুগলদের জন্য অনেক ভালোলাগার একটি দিন। সবাই চায় একটু অন্য রকম ভাবে দিনটিকে উৎযাপন করতে। স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা, সম্পর্ক হোক নতুন কিংবা বহু বছরের পুরোনো এই দিনটি সবার কাছেই অনেক স্পেশাল। তাই দিনটি নিয়ে সবার মনেই জল্পনা কল্পনার কোন কমতি থাকে না।

আসুন ভালোবাসার দিনটিকে স্পেশাল করার জন্য কিছু টিপস জেনে নেই। কীভাবে সাজবেন, কী উপহার দিবেন প্রিয় মানুষটিকে, কোথায় সেলিব্রেট করবেন দিনটি এ সম্পর্কে আমি আপনাদের সাথে সংক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা করবো আজকে।

ভালোবাসা দিবসের সাজঃ

ভালোবাসা দিবসে সাজ হতে হবে অবশ্যই আকর্ষণীয়।

পোশাকঃ

এই দিনটিতে কি পোশাক পড়বেন তা নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তার কমতি থাকে না, বিশেষ করে মেয়েরা চায় সঙ্গীর সামনে একটু স্পেশাল লুক। তাই অনেকেই শপিং করে ফেলে নতুন করে, আবার অনেকেই সঙ্গীর সাথে মিল রেখে পোশাক কিনে।

যেহেতু আমরা বাঙালী এক্ষেত্রে অনেক মেয়েই শাড়ি পড়তে বেশি ভালোবাসে আর দিনটি যেহেতু ভালোবাসার দিন তাই লাল শাড়ি সবারই প্রথম পছন্দ। এছাড়াও গোলাপি, খয়েরী, সোনালী, কালো সাদা শাড়ি ও বেশ মানিয়ে যায় এ দিনটিতে। আবার চাইলে অনেকেই সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, গাউন, টপস আর জিন্স ও পড়তে পারেন।

ছেলেরা যদি চান তাহলে আপনার সঙ্গীনীর পোশাকের সাথে মিলিয়ে পাঞ্জাবি, স্যুট, টি-শার্ট, ফতুয়া পড়তে পারেন। আপনার সঙ্গীনী যদি শাড়ি পড়ে তাহলে আপনি পাঞ্জাবি পড়বেন বেশ মানিয়ে যাবে। আর সঙ্গীনী যদি অন্য পোশাক পড়ে তবে আপনিও তার পোশাকের সাথে মিল রেখে পোশাক পড়ে নিবেন।

তাছাড়াও শপিংমল গুলোতে ভালোবাসা দিবসের জন্য স্পেশাল পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এখন, চাইলে দুজনে মিলে কিনে নিতে পারেন একেবারে একই রকম পোশাক। ব্যস পড়ে বাইরে বেড়াতে যান সবাই আপনাদেরই দেখবে।

মেক-আপঃ

যেহেতু ভালোবাসা দিবস তাই দিনে বা রাতে যেকোন সময়ই হতে পারে সেলিব্রেশন। তাই মেকাপ টা হতে হবে সেই দিক বিবেচনা করে আপনি কখন সেলেব্রেশন করবেন। 

যদি দিনের বেলা বেড়াতে যান তাহলে একটু হালকা মেকাপ করাই ভালো। এমন ভাবে মেকাপ করবেন যাতে আপনাকে হালকার মধ্যে অনেকটাই gorgeous দেখায়। এক্ষেত্রে আপনি হালকা ফাউন্ডেশন দিয়ে উপরে ফেইস পাউডার লাগিয়ে নিন। গালে হালকা করে একটু ব্লাশন। চোখে পোশাকের কালারের সাথে মানিয়ে আইশেডো লাগান, ঠোঁটে লাল বা গোলাপি লিপস্টিক হালকা করে। চুলটা যদি খোলা রাখতে চান বা বেঁধে চুলের গোড়ায় লাল গোলাপ গুজে দিতে ভুলবেন না। মানানসই একটা পার্স নিয়ে নিন আর মানানসই জুতো, আর জুয়েলারি  পড়ে নিতে ভুলবেন না। ব্যস হয়ে গেল এবার বেরিয়ে পড়ুন প্রিয় জনের সাথে সময় কাটানোর জন্য৷

আর রাতের বেলা ইচ্ছে মত অনেক বেশি মেকাপ ব্যবহার করতে পারেন। রাতে একটু গর্জিয়াস লুকেই বেশি ভালো দেখাবে। এক্ষেত্রে গাড়ো লিপস্টিক, আইশ্যাডো, ব্লাশন, দিতে পারেন। আর পোশাকটা ও হতে পারে অনেকটাই গর্জিয়াস। সাথে কানের দুল, গলায় হার, হাতে চুড়ি, ঘড়ি, আর সুগন্ধি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। ব্যস হয়ে গেল আপনার সাজ।

অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনি যাই পড়ুন আর যেভাবেই সাজুন না কেন অবশ্যই আপনি তাতে কমফোর্ট থাকতে হবে। আর সাজের ক্ষেত্রে আপনার বয়স, গায়ের রঙ, সঙ্গীর পছন্দকে প্রাধান্য দিন। কমফোর্টেবল না থাকলে কোন কিছুতেই আপনি ভালো অনুভব করবেন না। আর মন ভালো না থাকলে দিনটি আপনার স্পেশাল কখনোই হবে না।

সঙ্গীর উপহারঃ

ভালোবাসা দিবসে সঙ্গী কে একটা উপহার না দিলেই না। উপহারটা দামী হোক অথবা অল্প দামী তা হতে হবে স্পেশাল। আসুন কিছু উপহারের নাম জেনে নেই যা আপনার সঙ্গীর অবশ্যই পছন্দ হবে।

১. একগুচ্ছ ফুল।

২. চকোলেট

৩. বই

৪. কার্ড

৫. পারফিউম

৬. গয়না

৭. ফটো ফ্রেম

৮. পোশাক

৯. ঘড়ি

১০. ব্যাগ

১১. সিরামিকের শো-পিছ

১২. নিজের হাতের তৈরি উপহার।

এই উপহার গুলো পেয়ে আপনার সঙ্গী অবশ্যই খুশি হবে। আর হ্যাঁ অবশ্যই উপহারটি সঙ্গীকে দিবেন একটু আকর্ষণীয় ভাবে আর সঙ্গী কে ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভুলবেন না।

কোথায় ঘুরতে যাবেন?

ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে কোথায় ঘুরতে যাবেন তাই ভাবছেন তো। চলুন ঢাকার মাঝে কয়েকটি স্থানের নাম জেনে নেয়া যাক।

১. হাতির ঝিল

২. ধানমন্ডি লেক

৩. সংসদ ভবন

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা

৫. বোটানিক্যাল গার্ডেন

৬. রমনা পার্ক

৭. চিড়িয়াখানা

ওছাড়াও আপনি আপনার পছন্দ মত জায়গায় যেতে পারেন।

পরিশেষে,

ভালোবাসা সবার মাঝে থাকুক প্রতিদিনই। প্রতিদিন সঙ্গীকে খুশি রাখার মাঝেই ভালোবাসার প্রধাণ স্বার্থকতা। 

যদি আপনাদের কিছু প্রশ্ন থাকে অথবা কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই Comment করতে ভুলবেন না। চেস্টা করবো আপনাদের প্রশ্নের সঠিক সমাধান দিতে। আশা করছি আমার লেখা গুলো পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

★★“ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য।”★★