জ্বর হলে ঘরোয়া ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার উপায়

0
110
fever

জ্বর যেকোন সময় যে কারো হতে পারে। জ্বর হলে স্বাভাবিক কাজকর্মে বাঁধার সৃষ্টি হয়। জ্বর হয়নি এরকম মানুষ পাওয়া যাবেনা বললেই চলে। জ্বর এমন একটি রোগ যা বড় কোন রোগের পূর্বাভাস  হতে পারে।

জ্বরের লক্ষণ

জ্বর হলে যেসব লক্ষণ গুলো দেখা যায় সেগুলো হলো,

  • অবসাদগ্রস্ত।
  • শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া।
  • জয়েন্টে ব্যথা।
  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
  • মাথা ঘোড়ানো।
  • বমি ভাব। ইত্যাদি।

জ্বরের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা

জ্বর হলে তাৎক্ষণিক কেউ ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না। অনেকে ভাবে একটু অপেক্ষা করে দেখি। এজন্য অবশ্যই ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রাথমিক ভাবে এর চিকিৎসা করা যেতে পারে। নিচে জ্বরের কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি তুলে ধরা হলো যার মাধ্যমে উপকার পাওয়া যায়।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম

জ্বরের প্রথম ও প্রধান ঔষুধই হলো বিশ্রাম নেওয়া। যেকোন অসুখের ক্ষেত্রে বিশ্রাম নিতে হবে। এতে করে শরীর বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে না। জ্বর হলে শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্বলতা থেকে অনেক সময় মাথা ঘুরে ও বমি আসতে পারে। এজন্য বিশ্রামের কোন বিকল্প নাই।

যেকোন নিরিবিলি পরিবেশে শুয়ে চোখটা বন্ধ করে রাখলে দেখবেন অনেক আরাম পাওয়া যায়। চাইলে ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এভাবে যদি কিছু সময় বিশ্রামে থাকেন দেখবেন অনেকটাই ভালো লাগবে। আর জ্বর ও তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে।

মাথায় জলপট্টি

জ্বর যদি অনেক বেশি হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই মাথায় জলপট্টি নিতে পারেন। তাহলে জ্বর অনেকটা মাথা থেকে নেমে আসে।

এজন্য একটা সুতি গামছা বা রুমাল নিতে পারেন। তারপর ভালো করে ভিজিয়ে একটু চেপে নিয়ে তা মাথায় কপালের উপর রাখুন। কিছুক্ষণ পর আবার ঔ রুমালটা কপাল থেকে সরান দেখবেন রুমালটা কত গরম। সেটা আবার ভিজিয়ে আবার রাখুন কপালে। এভাবে কিছুক্ষণ রোগিকে করতে থাকুন ভালো লাগবে।

মাথায় পানি ঢালুন

জ্বরের তাপমাত্রা অনেক বেশি হলে যদি মাথা ঘুরায়, বমি বমি ভাব লাগে তাহলে অবশ্যই রোগিকে মাথায় পানি দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে জ্বর কমে যাবে।

মাথায় পানি ঢালতে হলে রোগিকে সমান বিছানায় শোয়াতে হবে। রোগির মাথার নিচে একটা বালিশের উপর পলিথিন বা কোন ব্যাগ দিয়ে দিন যাতে করে বিছানা ভিজে না যায়। এবার একটা বালতিতে পানি আনুন। একটা ছোট মগে করে পানি মাথায় ঢালতে থাকুন। এভাবে কিছুক্ষণ করলে দেখবেন জ্বর নেমে যাবে। তাপমাত্রা কমে যাবে।

স্পন্জ করুন

জ্বরের তাপমাত্রা বেশি হলে অবশ্যই পানি দিয়ে গা মুছে দিতে হবে কিছুক্ষণ পর পর। এতে করে রোগি অনেক টা আরাম পাবে ও দুর্বলতা কমে যাবে।

কুসুম গরম পানি নিয়ে নিন। এবার একটা সুতি গামছা পানিতে ভিজিয়ে নিন। এবার গামছাটা হালকা চেপে পানি টা নিঙড়ে নিন। তারপর শরীর মুছে দিন। পুরো শরীরে এভাবে স্পন্জ করুন বা মুছে দিন। দেখবেন তাপমাত্রা কমে যাবে।

তুলসী পাতার ব্যবহার

জ্বরের জন্য তুলসী পাতার গুরুত্ব অনেক। আর সেই সাথে যদি সর্দি, কাশি, থাকে তাহলে তো কথাই নেই। তুলসী পাতার রস খুব সহজে সর্দি, কাশি, জ্বর নিরাময় করে।

৮-১০ টা তুলসী পাতা এক মগ পানি এক সাথে নিয়ে চুলায় ভালো করে ফুটাতে হবে। ফুটিয়ে পানিকে এক কাপের মত কমিয়ে আনতে হবে। তারপর সেই পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন সকালে এভাবে তুলসী পাতার পানি পান করলে খুব তাড়াতাড়ি জ্বর,সর্দি, কাশি দূর হবে।

আদা

আদা তে আছে একধরনের প্রাকৃতিক অ্যান্টিভাইরাস। আদা জ্বর কমানোর জন্য বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে। এর মাধ্যমে জ্বর খুব দ্রুত কমানো যায়।

আদা বাটা পানিতে নিয়ে ভালো করো ফুটিয়ে নিন। এর মধ্যে মধু দিয়ে দিন। এবার এই পানি দিনে ২-৩ বার পান করুন দেখবেন জ্বর আস্তে আস্তে কমে আসবে।

ভিটামিনযুক্ত খাবার খান

এ সময় শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। কিছু করতে ভালো লাগে না। তাই এ সময় যতটা সম্ভব ভিটামিনযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

বেশি বেশি সবুজ শাক সবজি খাবেন। ভিটামিন সমৃদ্ধ শাক সবজি খাবেন বেশি বেশি। সবজি স্যুপ, চিকেন স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এছাড়া নরম ভাত, খিচুরি খাবেম। এতে করে শরীরে অনেক শক্তি পাবেন। আর জ্বর ও কমে আসবে।

ভিটামিন সি

জ্বর হলে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। ভিটামিন সি জ্বর নিরাময়ের জন্য দ্রুত কাজ করে। সাথে সাথে মুখের রুচি বাড়ায়।

কমলালেবু, লেবুর রস, পেয়ারা, আমড়া, আনারস বেশি বেশি খাবেন। দেখবেন জ্বর কমে যাবে সেই সাথে শরীরে শক্তি পাবেন।

তরল খাবার খাবেন

জ্বর হলে শরীরে পানির মাত্রা কমে যায়। এর ফলে পানি শূণ্যতা দেখা দেয়। এজন্য অবশ্যই বেশি করে তরল খাবার পান করবেন তাহলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিবে না।

পানির ঘাটতি পূরণের জন্য বেশি করে পানি পান করুন। তাছাড়া ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, স্যালাইন খেতে পারেন। একটু একটু করে কিছুক্ষণ পরপর পান করার চেষ্টা করবেন। দেখবেন শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক থাকবে সেই সাথে জ্বর কমে আসবে।

প্যারাসিটামল

জ্বর যদি অতিরিক্ত পর্যায়ে হয়ে যায় তখন আপনি চাইলে একটা প্যারাসিটামল খেতে পারেন। এছাড়া ভুলেও অন্য কোন ঔষুধ খাবেন না। যদিও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষুধ খাওয়া ঠিক না তারপর ও আপনি চাইলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। এতে করে আপনার জ্বর নিমেষেই কমে যাবে।

একটা প্যারাসিটামল পানি দিয়ে গিলে খেয়ে নিবেন। ভুলেও একের অধিক খাবেন না এতে করে আরো সমস্যা বেড়ে যাবে। এটি খাওয়ার ফলে দেখবেন আপনার জ্বর দ্রুত নেমে যাবে।

জ্বর হলে অবহেলা করা মোটেই উচিত নয়। কারণ জ্বর থেকে অনেক বড় কিছু হতে পারে। জ্বর হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন কিন্তু তার আগে আপনি অবশ্যই ঘরোয়া ভাবে এর চিকিৎসা করার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনি দুর্বল কম হবেন।

মনে রাখবেন সচেতনতাই পারে আপনাকে বিশাল বিপদ থেকে রক্ষা করতে। আর অবশ্যই রোগ বালাই হলে আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে ভুলবেন না।

আপনাদের মতামত অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে লিখতে ভুলবেন না।